Posted by & filed under Articles, In the Press, India, Photos, Press Releases, Sulabh News, West Bengal.

Ei Samay

এই সময় : কেন বিধবা বিবাহ আইন পাশ হওয়ার একশো ষাট বছর পরেও বিধবাদের সামাজিক পুনর্বাসন ও ক্ষমতায়ন নিয়ে আলোচনাসভা আয়োজন করতে হয় ? বিদ্যাসাগরের আমলে না হয় নানা সামাজিক প্রতিবন্ধকতা বা রক্ষণশীল দৃষ্টিভঙ্গির জেরে বিধবাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা কঠিন ছিল৷ কিন্ত্ত এত বছর পরেও কেন সে সমস্যার জট ছাড়ল না ? এই প্রশ্ন তুললেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের বংশধর নীলাদ্রি বন্দ্যোপাধ্যায়৷ কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিদ্যার প্রাক্তন অধ্যাপক নীলাদ্রি শুক্রবার কলকাতায় ‘বিধবাদের সামাজিক মুক্তি ও স্বশক্তিকরণ ’ শীর্ষক একটি আলোচনা সভায় যোগ দেন৷ সেখানেই তিনি এ প্রশ্ন তোলেন এবং সামাজিক প্রেক্ষাপটে বিধবাদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির বদল আদতে কতটা হয়েছে , তা নিয়ে নতুন করে চিন্তাভাবনার প্রয়োজনের কথা বলেন৷ বিদ্যাসাগরের আমলে যে সমাজটা আটকে নেই , এ দিনের আলোচনা সভায় তার খণ্ডচিত্র ধরা পড়লেও নীলাদ্রি যা বলেছেন , তার প্রয়োজন যে কতখানি , সেটা বোঝার মতো উদাহরণও ছিল ভূরি ভূরি৷ একদিকে ছিলেন উত্তরাখণ্ডের বিনীতা৷ ১৯ বছর বয়সে প্রাকৃতিক দুর্যোগে স্বামীকে হারিয়ে বৈধব্যের নিঃসঙ্গতা ও কড়া অনুশাসনের অন্ধকারে ডুবে গিয়েছিল তাঁর জীবন৷ একদিন পরিচয় হয় পেশায় গাড়ি চালক রাকেশ কুমারের সঙ্গে৷ বিনীতাকে মনে ধরে রাকেশের৷ বিয়ের প্রস্তাব দেন৷ কুণ্ঠিত ভাবেই বিনীতা জানিয়েছিলেন , তিনি বিধবা৷ কিন্ত্ত রাকেশের কাছে সেটা কোনও বাধা মনেই হয়নি৷ শেষ পর্যন্ত চার হাত এক হয়৷ বিনীতা এখন দুই সন্তানের মা৷

কিন্ত্ত বাসন্তীর সুবর্ণর গল্পটা যে অন্যরকম ! আশপাশের মানুষের কাছে তাঁর পরিচয় ‘বাঘ বিধবা ’৷ সুন্দরবনের গভীরে মধু সংগ্রহে গিয়ে বাঘের শিকার হন তাঁর স্বামী৷ ১৫ বছরের দীর্ঘ বৈধব্যের যাতনায় মুখে অকাল বার্ধক্যের বলিরেখা৷ বলেন , ‘আমার কোনও ছেলেমেয়ে নেই৷ বোনের এক ছেলে দুটো ভাত দেয়৷ সরকার থেকে সাহায্যও পাই না৷ ’ নবদ্বীপের প্রাচীন মায়াপুরের ছবি শর্মার ছেলে থাকলেও সুবর্ণর চেয়ে তাঁর পরিস্থিতি খুব একটা ভালো নয়৷ ছেলের আর্থিক অবস্থা এতটাই খারাপ যে নিজের সংসার টানতেই নাজেহাল৷ তাঁর ‘গলগ্রহ ’ না হয়ে তাই বৃন্দাবনবাসী হয়েছেন ছবি৷ নামগান করে আগে সেখানে একটি আশ্রম থেকে দৈনিক আড়াই টাকা , চালডাল সব্জির সিধে আর কখনও সখনও কাপড় পেতেন৷ হালে অবশ্য সর্বোচ্চ আদালতের হস্তক্ষেপে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার তরফে মাসে দু’হাজার টাকা করে মিলছে৷ একটু ভালো আছেন ছবি৷ তবে তিনি ব্যক্তিগত ভাবে বিধবাদের পুনর্বিবাহে বিশ্বাসী নন৷ তাঁর কথায় , ‘মন তো একটাই৷ একজনকে সঁপেছিলাম৷ অন্য কারও কথা মনে আনি না৷ ’ বর্তমানে লাফবারো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নীলাদ্রি বলেন , ‘বিদ্যাসাগর বিধবা বিবাহের সূচনা করেছিলেন৷ কিন্ত্ত কুণ্ঠার সঙ্গে বলছি , বৃন্দাবন -সহ ভারতের নানা জায়গায় বিধবাদের যে শোচনীয় পরিস্থিতি , তা নিয়ে আমি খুব একটা অবহিত ছিলাম না৷ এই আলোচনা সভার উদ্যোক্তারা আমায় বলতে বলার পরে এ বিষয়ে কিছু খোঁজখবর নেওয়া ও পড়াশোনা শুরু করলাম৷ দেশের বড় শহরে পরিস্থিতি সামান্য বদলালেও সামগ্রিক ভাবে বিধবাদের গ্রহণযোগ্যতা সে ভাবে বাড়েনি৷ ’তবে সিন্ধুতে বিন্দুর মতোই সংস্কারের অচলায়তনে খানিক চিড় যে ধরছে , তার কিছু দিশা মিলল রাজা রামমোহন রায় ও পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ফাউন্ডেশন আয়োজিত এই আলোচনা সভায়৷ যেমন বিন্ধ্যেশ্বরী পাঠকের নেতৃত্বে সুলভ ইন্টারন্যাশনালের সহায়তায় বৃন্দাবনে বিধবারা সংস্কারকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে রঙিন কাপড় পরছেন , হোলিতে মাতছেন , এমনকি ফ্যাশন শোয়ের র্যাম্পেও হাঁটছেন৷ স্বনির্ভর হতে শিখছেন হাতের কাজ , কম্পিউটার৷ পঞ্চায়েত মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন , রাজ্য সরকারও বিধবাদের ক্ষমতায়নের কর্মকাণ্ডে শরিক হতে চায়৷ তিনি বলেন , ‘রাজ্যে স্বনির্ভর প্রকল্পে আমরা বিধবাদের সংযুক্ত করতে পারি৷ না হলে , বিধবাদের উপরে যে শোষণ চলছে , যে বঞ্চনার তাঁরা শিকার , তা লজ্জার কারণ হয়ে দাঁড়ায়৷ ’ নারী কল্যাণমন্ত্রী শশী পাঁজা মনে করেন , এই সমস্যার সমাধানে সরকারি উদ্যোগের সঙ্গে মানসিকতারও ইতিবাচক বদল দরকার৷

বিধবাদের ক্ষমতায়নে শরিক হতে চায় রাজ্যও৷ শুক্রবার কলকাতায় — জয়ন্ত সাউ৷

Source : http://www.epaper.eisamay.com/Details.aspx?id=37559&boxid=141412798